শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাইকোর্টের আদেশ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গাইবান্ধায় গুঁড়িয়ে দেওয়া ইটভাটা পুনর্নির্মাণ! প্রশাসনের মেরুদণ্ডহীন ভূমিকা

হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ ও জেলা প্রশাসনের ভাঙার অভিযান—সবকিছুই কি তবে কেবল লোক দেখানো কাগজ-কলমের নাটক ছিল? গাইবান্ধায় আদালতের আদেশে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া অবৈধ ইটভাটাগুলো এখন আইনের তোয়াক্কা না করে প্রশাসনের নাকের ডগায় পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। শুধু তাই নয়, বন্ধ হওয়া ভাটাগুলোতে রাতারাতি নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন প্রান্তে অবাধে চলছে ইট পোড়ানো ও উৎপাদনের রমরমা বাণিজ্য।

​আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কীভাবে এমন বেপরোয়া সিন্ডিকেট সক্রিয় হলো, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সচেতন মহলে।

​সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত ১ নভেম্বর গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় একিউট বায়ুদূষণ ও পরিবেশ আইনের তোয়াক্কা না করা অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছিল জেলা প্রশাসন। হাইকোর্টের কঠোর নির্দেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ওই সময় বেশ কিছু ভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

​কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রশাসনের বুলডোজার নামার পর কদিন না যেতেই সেই একই ভাঙা ইটভাটাগুলোতে নতুন উদ্যমে শুরু হয়েছে পুনর্নির্মাণের কর্মযজ্ঞ। আদালতের নির্দেশকে প্রকাশ্যে অবজ্ঞা করে চলছে দেওয়াল গাঁথুনি ও চিমনি মেরামতের কাজ। প্রশ্ন উঠেছে—প্রশাসনের ভাঙার অভিযানের পর পাহাড়সমান এই অবৈধ স্থাপনাগুলো পুনরায় কীভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়? জেলা প্রশাসনের তদারকি ও নজরদারি তাহলে কোথায় হারিয়ে গেল?

​শুধু নির্দিষ্ট কিছু ভাঙা ভাটা পুনর্নির্মাণই নয়, গাইবান্ধার বিভিন্ন জনপদে পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের যৌথ মোবাইল কোর্ট অভিযানের দাবিকে তুচ্ছ করে বহাল তবিয়তে চালু রয়েছে ডজন ডজন অবৈধ ইটভাটা। সেখানে দেদারছে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ, পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়ানো হচ্ছে লোকালয়ে।

​নিয়মিত মোবাইল কোর্ট বা অভিযান পরিচালনার কথা বললেও বাস্তবে তার কোনো দীর্ঘস্থায়ী ও কঠোর প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। মাঝেমধ্যে লোক দেখানো কিছু অভিযান চালিয়ে দায় সারছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অথচ পরিবেশ সুরক্ষা ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের এই নির্লিপ্ত ও রহস্যজনক ভূমিকা পুরো জেলাবাসীকে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

​আদালতের মতো সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নির্দেশকে এভাবে যারা মাঠে অপপ্রয়োগ ও উপেক্ষার দুঃসাহস দেখাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি। আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে এবং সাধারণ মানুষের জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় গাইবান্ধার জেলা প্রশাসকের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

​পরিবেশ ধ্বংসের এই মহোৎসব বন্ধে প্রশাসন কি এবার সত্যিই কোনো দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নেবে, নাকি এই অনিয়ম এভাবেই চলতে থাকবে—এখন সেটাই দেখার বিষয়।

জনপ্রিয়

হাইকোর্টের আদেশ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গাইবান্ধায় গুঁড়িয়ে দেওয়া ইটভাটা পুনর্নির্মাণ! প্রশাসনের মেরুদণ্ডহীন ভূমিকা

error: Content is protected !!

হাইকোর্টের আদেশ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গাইবান্ধায় গুঁড়িয়ে দেওয়া ইটভাটা পুনর্নির্মাণ! প্রশাসনের মেরুদণ্ডহীন ভূমিকা

প্রকাশের সময়: ০৯:০১:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ ও জেলা প্রশাসনের ভাঙার অভিযান—সবকিছুই কি তবে কেবল লোক দেখানো কাগজ-কলমের নাটক ছিল? গাইবান্ধায় আদালতের আদেশে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া অবৈধ ইটভাটাগুলো এখন আইনের তোয়াক্কা না করে প্রশাসনের নাকের ডগায় পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। শুধু তাই নয়, বন্ধ হওয়া ভাটাগুলোতে রাতারাতি নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন প্রান্তে অবাধে চলছে ইট পোড়ানো ও উৎপাদনের রমরমা বাণিজ্য।

​আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কীভাবে এমন বেপরোয়া সিন্ডিকেট সক্রিয় হলো, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সচেতন মহলে।

​সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত ১ নভেম্বর গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় একিউট বায়ুদূষণ ও পরিবেশ আইনের তোয়াক্কা না করা অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছিল জেলা প্রশাসন। হাইকোর্টের কঠোর নির্দেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ওই সময় বেশ কিছু ভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

​কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রশাসনের বুলডোজার নামার পর কদিন না যেতেই সেই একই ভাঙা ইটভাটাগুলোতে নতুন উদ্যমে শুরু হয়েছে পুনর্নির্মাণের কর্মযজ্ঞ। আদালতের নির্দেশকে প্রকাশ্যে অবজ্ঞা করে চলছে দেওয়াল গাঁথুনি ও চিমনি মেরামতের কাজ। প্রশ্ন উঠেছে—প্রশাসনের ভাঙার অভিযানের পর পাহাড়সমান এই অবৈধ স্থাপনাগুলো পুনরায় কীভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়? জেলা প্রশাসনের তদারকি ও নজরদারি তাহলে কোথায় হারিয়ে গেল?

​শুধু নির্দিষ্ট কিছু ভাঙা ভাটা পুনর্নির্মাণই নয়, গাইবান্ধার বিভিন্ন জনপদে পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের যৌথ মোবাইল কোর্ট অভিযানের দাবিকে তুচ্ছ করে বহাল তবিয়তে চালু রয়েছে ডজন ডজন অবৈধ ইটভাটা। সেখানে দেদারছে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ, পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়ানো হচ্ছে লোকালয়ে।

​নিয়মিত মোবাইল কোর্ট বা অভিযান পরিচালনার কথা বললেও বাস্তবে তার কোনো দীর্ঘস্থায়ী ও কঠোর প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। মাঝেমধ্যে লোক দেখানো কিছু অভিযান চালিয়ে দায় সারছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অথচ পরিবেশ সুরক্ষা ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের এই নির্লিপ্ত ও রহস্যজনক ভূমিকা পুরো জেলাবাসীকে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

​আদালতের মতো সর্বোচ্চ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নির্দেশকে এভাবে যারা মাঠে অপপ্রয়োগ ও উপেক্ষার দুঃসাহস দেখাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি। আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে এবং সাধারণ মানুষের জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় গাইবান্ধার জেলা প্রশাসকের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

​পরিবেশ ধ্বংসের এই মহোৎসব বন্ধে প্রশাসন কি এবার সত্যিই কোনো দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নেবে, নাকি এই অনিয়ম এভাবেই চলতে থাকবে—এখন সেটাই দেখার বিষয়।