
গাইবান্ধার সাঘাটায় যুবদল নেতার চালানো নৃশংস হত্যাযজ্ঞে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক জামায়াত কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। ৪-৮ দিন মৃত্যুর সাথে লড়ে অবশেষে শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ঢাকার কল্যাণপুর ইবনে সিনা হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিন। এর আগে গত ২১ জুন একই হামলায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছিলেন আলোচিত ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী।
জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বাবা ও উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য সামছুল হোদা দুদু। এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমীর ডা. শফিকুর রহমান তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে শোক প্রকাশ করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে জোড়া মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। এ বিষয়ে সাঘাটা যুব জামায়াতের সেক্রেটারি আশিকুর রহমান আপেল তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং জামায়াত-শিবিরকে কোণঠাসা করার একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। প্রশাসন সব জেনেও জড়িত মূল ঘাতকদের আড়াল করার চেষ্টা করছে।”
উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাদা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দিনদুপুরে প্রকাশ্যে ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মূল ঘাতক ‘চাকু পলাশ’ প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। এমনকি প্রধান আসামি মুকুলের বাবাও সাধারণ মানুষকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন, অথচ স্থানীয় প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে।
স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জুন বিকেলে সাঘাটার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে উপজেলা চত্বরে প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লার সাথে যুবদল নেতা মোখলেছুর রহমান মুকুলের বাগবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসা হলে সবাই সেখান থেকে ত্যাগ করেন।
এর মাত্র ১০ মিনিট পর বোনারপাড়া-সাঘাটা সড়কের উপজেলা সংলগ্ন বোনারপাড়া চৌমাথায় দাঁড়িয়ে থাকা জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বহিষ্কৃত যুবদল নেতা মুকুল, তার ছোট ভাই ‘চাকু পলাশ’, বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম ও যুবদল নেতা আশরাফসহ ১০-১৩ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। সালাউদ্দিনকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করতে দেখে বোনারপাড়া ইউনিয়ন শিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা তাকে ধাওয়া করে রাস্তায় ফেলে সরাসরি গলায় অস্ত্র চালিয়ে দেয়।
পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাইফুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে মুমূর্ষু অবস্থায় সালাউদ্দিনকে প্রথমে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার কল্যাণপুর ইবনে সিনা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে দীর্ঘ ৪৮ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে আজ সকালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
ঘটনার পরদিন ২২ জুন নিহত শিবির নেতা সাইফুল্লাহর বাবা হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে সাঘাটা থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৪-১৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পরপরই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জেলা যুবদল মোখলেছুর রহমান মুকুলকে বহিষ্কার করে।
সার্বিক বিষয়ে সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, সাইফুল্লাহ বারী হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত মূল আসামি মোখলেছুর রহমান মুকুলসহ মোট ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত অন্য আসামিরা হলেন— আশরাফ, রবিউল, শাহ আলম ও নাম না জানা আরো একজন। বাকি জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
















