
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে কৃষকের জন্য বরাদ্দকৃত রাসায়নিক সার অবৈধভাবে মজুত করার দায়ে ৯ নম্বর বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহিন সরকারের বাড়ি থেকে ৭২ বস্তা সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে অবৈধ মজুতের অপরাধে সাবেক ওই চেয়ারম্যানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলার উত্তর মন্দুয়ার (শালাইপুর) এলাকায় শাহিন সরকারের বাড়িতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঝটিকা অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সাদুল্লাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জসিম উদ্দিন।
অভিযান সূত্রে জানা গেছে, কৃষকদের প্রাপ্য বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক সার গোপনে নিজ বাড়িতে মজুত করে রেখেছিলেন বনগ্রাম ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও মৃত বদিউজ্জামান সরকারের ছেলে মো. শাহিন সরকার (৬০)। তল্লাশি চালিয়ে তার বাড়ি থেকে মোট ৭২ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫৬ হাজার ৭০০ টাকাা।
অবৈধভাবে সার মজুতের প্রমাণ মেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাহিন সরকারকে তাৎক্ষণিক ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
উদ্ধারকৃত সারের মধ্যে রয়েছে—ইউরিয়া সার: ১৩ বস্তা, আনুমানিক মূল্য ১৭ হাজার ৫৫০ টাকা। জিপসাম সার: ২৮ বস্তা, আনুমানিক মূল্য ২ হাজার ৮০০ টাকা। ডিএপি সার: ১৬ বস্তা, আনুমানিক মূল্য ১৬ হাজার ৮০০ টাকা। টিএসপি সার: ১৩ বস্তা, আনুমানিক মূল্য ১৭ হাজার ৫৫০ টাকা। পটাশ সার: ২ বস্তা, আনুমানিক মূল্য ২ হাজার টাকা।

সব মিলিয়ে মোট ৭২ বস্তা রাসায়নিক সার, যার আনুমানিক মোট মূল্য ৫৬ হাজার ৭০০ টাকা।
অভিযান পরিচালনাকারী এসিল্যান্ড জসিম উদ্দিন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি বা কৃষকের অধিকার হরণ করে সার পাচার ও অবৈধ মজুতকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় নেই। সিন্ডিকেট ও অসাধু চক্র ভাঙতে এ ধরনের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 















