সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নামমাত্র কাজ করেই লোপাট লাখ লাখ টাকা: ঘাগোয়ায় আ’লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য সাজুর দাপটে জিম্মি এলাকাবাসী

গাইবান্ধা সদর উপজেলার ১০ নম্বর ঘাগোয়া ইউনিয়নে উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাজু মিয়ার বিরুদ্ধে। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নামমাত্র কাজ করে লাখ লাখ টাকা পকেটস্থ করার ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয় এলাকাবাসী।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানের যোগসাজশে ঘাগোয়া এম বি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একটি ওয়াশ ব্লক নির্মাণের জন্য কয়েক লাখ টাকার প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের কাজ শুরুর পর মাঠের এক কোণে কয়েকটি ইট গেঁথেই লাপাত্তা হয়ে যান অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সাজু মিয়া। পরবর্তীতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, বাস্তবে কোনো কাজ না করেই পুরো বিল উত্তোলন করে নেওয়া হয়েছে।

​এ বিষয়ে ঘাগোয়া এম বি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রকল্পের বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি। প্রধান শিক্ষক এবং  সভাপতি অভিযোগ করে বলেন, “জায়গা নির্ধারণ না করে নিজের খেয়ালখুশিমতো স্কুলের মাঠে কাজ শুরু করেন সাজু মেম্বার। কাজ না করেই বিল উত্তোলনের জন্য তিনি সাদা কাগজে আমাদের স্বাক্ষর চান। আমরা নীতিগত কারণে স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানাই। কিন্তু পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া মাস্টাররোল তৈরির মাধ্যমে পুরো টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।”

​জালিয়াতির বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান সফিকুর রহমানের কার্যালয়ে গিয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে যান এবং কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। এ সময় একই কক্ষে উপস্থিত অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা সাজু মিয়া মুখ খোলার চেষ্টা করলে চেয়ারম্যান একপর্যায়ে ধমক দিয়ে তাকে থামিয়ে দেন, যা উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে এক রহস্যজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

​স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমল থেকেই দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নানা অপকর্ম, অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়ম চালিয়ে আসছেন সাজু মিয়া। প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে সরকারি অর্থ হরিলুট করা তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

​এলাকাবাসীর প্রশ্ন—একজন জনপ্রতিনিধি কীভাবে এমন প্রকাশ্য জালিয়াতি ও দুর্নীতির সাহস পান? অবিলম্বে এই ভুয়া বিল উত্তোলন ও জালিয়াতির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সাজু মিয়ার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।

জনপ্রিয়

নামমাত্র কাজ করেই লোপাট লাখ লাখ টাকা: ঘাগোয়ায় আ’লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য সাজুর দাপটে জিম্মি এলাকাবাসী

error: Content is protected !!

নামমাত্র কাজ করেই লোপাট লাখ লাখ টাকা: ঘাগোয়ায় আ’লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য সাজুর দাপটে জিম্মি এলাকাবাসী

প্রকাশের সময়: ০১:০৫:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

গাইবান্ধা সদর উপজেলার ১০ নম্বর ঘাগোয়া ইউনিয়নে উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাজু মিয়ার বিরুদ্ধে। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নামমাত্র কাজ করে লাখ লাখ টাকা পকেটস্থ করার ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয় এলাকাবাসী।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানের যোগসাজশে ঘাগোয়া এম বি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একটি ওয়াশ ব্লক নির্মাণের জন্য কয়েক লাখ টাকার প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের কাজ শুরুর পর মাঠের এক কোণে কয়েকটি ইট গেঁথেই লাপাত্তা হয়ে যান অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সাজু মিয়া। পরবর্তীতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, বাস্তবে কোনো কাজ না করেই পুরো বিল উত্তোলন করে নেওয়া হয়েছে।

​এ বিষয়ে ঘাগোয়া এম বি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রকল্পের বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি। প্রধান শিক্ষক এবং  সভাপতি অভিযোগ করে বলেন, “জায়গা নির্ধারণ না করে নিজের খেয়ালখুশিমতো স্কুলের মাঠে কাজ শুরু করেন সাজু মেম্বার। কাজ না করেই বিল উত্তোলনের জন্য তিনি সাদা কাগজে আমাদের স্বাক্ষর চান। আমরা নীতিগত কারণে স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানাই। কিন্তু পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া মাস্টাররোল তৈরির মাধ্যমে পুরো টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।”

​জালিয়াতির বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান সফিকুর রহমানের কার্যালয়ে গিয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে যান এবং কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। এ সময় একই কক্ষে উপস্থিত অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা সাজু মিয়া মুখ খোলার চেষ্টা করলে চেয়ারম্যান একপর্যায়ে ধমক দিয়ে তাকে থামিয়ে দেন, যা উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে এক রহস্যজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

​স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমল থেকেই দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নানা অপকর্ম, অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়ম চালিয়ে আসছেন সাজু মিয়া। প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে সরকারি অর্থ হরিলুট করা তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

​এলাকাবাসীর প্রশ্ন—একজন জনপ্রতিনিধি কীভাবে এমন প্রকাশ্য জালিয়াতি ও দুর্নীতির সাহস পান? অবিলম্বে এই ভুয়া বিল উত্তোলন ও জালিয়াতির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সাজু মিয়ার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।