সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামে গুদাম লুটের প্রভাব গাইবান্ধায়!  বামনডাঙ্গায় সার পয়েন্টে চরম বিশৃঙ্খলা, পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

প্রতিবেশী জেলা কুড়িগ্রামে সারের গুদাম লুটের ঘটনার রেশ ছড়িয়ে পড়েছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গায়। আমন মৌসুমের শুরুতেই সারের তীব্র সংকটের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় উপজেলার ডিলার পয়েন্টগুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন শত শত নারী-পুরুষ কৃষক। একপর্যায়ে আগে পাওয়ার হুড়োহুড়িতে সৃষ্টি হয় চরম বিশৃঙ্খলা ও হাতাহাতির উপক্রম। তবে বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের তড়িৎ হস্তক্ষেপে বড় ধরনের সংঘাত ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

​স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই সার পাওয়ার অনিশ্চয়তায় ডিলার পয়েন্টগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইন দিতে শুরু করেন কৃষকরা। ডিলারের কাছে পর্যাপ্ত সারের মজুদ থাকলেও ‘সার পাওয়া যাবে না’—এমন আতঙ্কে একযোগে শত শত কৃষক জড়ো হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ধাক্কাধাক্কি ও হট্টগোলের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল। পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং নারী-পুরুষের জন্য পৃথক সারির ব্যবস্থা করে সুশৃঙ্খলভাবে সার বিতরণ নিশ্চিত করেন।

​লাইলনে দাঁড়িয়ে থাকা ভুক্তভোগী কৃষক রফিকুল ইসলাম (৪৮) বলেন, “সকাল ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। হঠাৎ পেছন থেকে ধাক্কাধাক্কি শুরু হলে পরিস্থিতি চরম খারাপ হয়ে যায়। পুলিশ এসে শক্ত অবস্থান না নিলে রক্তারক্তি হতে পারত। পুলিশের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত শান্তিতে সার পেয়েছি।”

​ভিড়ে হেনস্তার শিকার হওয়া আমেনা বেগম (৫৫) নামের এক নারী কৃষক জানান, “পুরুষদের অতিরিক্ত ভিড় ও ধাক্কাধাক্কিতে আমাদের মতো নারীদের জন্য সার নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। পরে পুলিশ এসে আমাদের জন্য আলাদা লাইনের ব্যবস্থা করায় নিরাপদে সার হাতে পেয়েছি।”

এবিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার কাইয়ুম চৌধুরী জানান আমাদের সার সংকট নেই তবে গতকাল কুড়িগ্রামে সাড় গোডাউন লুটের ঘটনায় কিছুটা প্রভাব পড়েছে।

​এ বিষয়ে বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কুড়িগ্রামের ঘটনার পর কোনো মহল যাতে কৃত্রিম সংকট বা আতঙ্ক সৃষ্টি করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, সেজন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কৃষকরা যাতে কোনো ধরনের দালালের দৌরাত্ম্য ছাড়া ন্যায্যমূল্যে ও শান্ত পরিবেশে সার সংগ্রহ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ডিলার পয়েন্টগুলোতে পুলিশের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

জনপ্রিয়

কুড়িগ্রামে গুদাম লুটের প্রভাব গাইবান্ধায়!  বামনডাঙ্গায় সার পয়েন্টে চরম বিশৃঙ্খলা, পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

error: Content is protected !!

কুড়িগ্রামে গুদাম লুটের প্রভাব গাইবান্ধায়!  বামনডাঙ্গায় সার পয়েন্টে চরম বিশৃঙ্খলা, পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

প্রকাশের সময়: ০২:৩৩:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

প্রতিবেশী জেলা কুড়িগ্রামে সারের গুদাম লুটের ঘটনার রেশ ছড়িয়ে পড়েছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গায়। আমন মৌসুমের শুরুতেই সারের তীব্র সংকটের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় উপজেলার ডিলার পয়েন্টগুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন শত শত নারী-পুরুষ কৃষক। একপর্যায়ে আগে পাওয়ার হুড়োহুড়িতে সৃষ্টি হয় চরম বিশৃঙ্খলা ও হাতাহাতির উপক্রম। তবে বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের তড়িৎ হস্তক্ষেপে বড় ধরনের সংঘাত ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

​স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই সার পাওয়ার অনিশ্চয়তায় ডিলার পয়েন্টগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইন দিতে শুরু করেন কৃষকরা। ডিলারের কাছে পর্যাপ্ত সারের মজুদ থাকলেও ‘সার পাওয়া যাবে না’—এমন আতঙ্কে একযোগে শত শত কৃষক জড়ো হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ধাক্কাধাক্কি ও হট্টগোলের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল। পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং নারী-পুরুষের জন্য পৃথক সারির ব্যবস্থা করে সুশৃঙ্খলভাবে সার বিতরণ নিশ্চিত করেন।

​লাইলনে দাঁড়িয়ে থাকা ভুক্তভোগী কৃষক রফিকুল ইসলাম (৪৮) বলেন, “সকাল ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। হঠাৎ পেছন থেকে ধাক্কাধাক্কি শুরু হলে পরিস্থিতি চরম খারাপ হয়ে যায়। পুলিশ এসে শক্ত অবস্থান না নিলে রক্তারক্তি হতে পারত। পুলিশের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত শান্তিতে সার পেয়েছি।”

​ভিড়ে হেনস্তার শিকার হওয়া আমেনা বেগম (৫৫) নামের এক নারী কৃষক জানান, “পুরুষদের অতিরিক্ত ভিড় ও ধাক্কাধাক্কিতে আমাদের মতো নারীদের জন্য সার নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। পরে পুলিশ এসে আমাদের জন্য আলাদা লাইনের ব্যবস্থা করায় নিরাপদে সার হাতে পেয়েছি।”

এবিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার কাইয়ুম চৌধুরী জানান আমাদের সার সংকট নেই তবে গতকাল কুড়িগ্রামে সাড় গোডাউন লুটের ঘটনায় কিছুটা প্রভাব পড়েছে।

​এ বিষয়ে বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কুড়িগ্রামের ঘটনার পর কোনো মহল যাতে কৃত্রিম সংকট বা আতঙ্ক সৃষ্টি করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, সেজন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কৃষকরা যাতে কোনো ধরনের দালালের দৌরাত্ম্য ছাড়া ন্যায্যমূল্যে ও শান্ত পরিবেশে সার সংগ্রহ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ডিলার পয়েন্টগুলোতে পুলিশের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।