
জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে হালচাষ আর বাড়ির সামনে কাপড় শুকানোর দড়ি টাঙানো—এমনই তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে গাইবান্ধায় এক যুবককে পিটিয়ে ও গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। রক্তক্ষয়ী এই হামলায় গুরুতর আহত মোঃ রাজা মিয়া (৩২) বর্তমানে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর মাথায় পাঁচটি সেলাই লেগেছে।
গত ২১ আগস্ট গাইবান্ধা সদর উপজেলার খামার ট্যাঙরজানী এলাকায় এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা আকলিমা বেগম বাদী হয়ে সদর থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ির সামনে রাস্তার পাশে কাপড় শুকানোর দড়ি খাটানো নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে আকলিমা বেগমের পরিবারের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে প্রতিবেশী মোঃ মিলন মিয়া (৪২), মোছাঃ পারুল বেগম (৩৭) ও মোঃ সাদা মিয়াসহ (৩০) অজ্ঞাত আরও ২–৩ জন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রাজা মিয়ার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলার একপর্যায়ে প্রধান আসামি মিলনের নির্দেশে পারুল বেগম কাঠের পিঁড়া দিয়ে রাজা মিয়ার মাথায় সজোরে আঘাত করেন। এতে মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে অপর অভিযুক্ত সাদা মিয়া তাঁর বুকের ওপর চেপে বসে দুই হাত দিয়ে গলা টিপে শ্বাসরোধের চেষ্টা চালান।
স্থানীয় বাসিন্দা নূর আলম সরকার ও মেহেদী হাসানসহ প্রত্যক্ষদর্শীরা চিৎকার শুনে দ্রুত এগিয়ে এসে মুমূর্ষু অবস্থায় রাজাকে উদ্ধার করেন। হামলাকারীরা যাওয়ার সময় পুরো পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যায়।
পরে স্বজনরা রক্তাক্ত অবস্থায় রাজাকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান। পারিবারিক সিদ্ধান্তের পর থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে জানান বাদী আকলিমা বেগম। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা। সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
















