সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হেফাজতের আপত্তি ও সমালোচনার জবাবে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ‘ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে ওলামাদের দুয়ারে যাবেন শামীম কায়সার’

নিয়োগ নিয়ে হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন ধর্মীয় মহলের আপত্তি ও সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে নিয়ে ওলামা-মাশায়েখদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে যাবতীয় ভুল বোঝাবুঝি অবসানের ঘোষণা দিয়েছেন নবনিযুক্ত ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার।

​দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই তিনি স্পষ্ট করেছেন, কোনো দূরত্ব তৈরি না করে আলোচনার পথেই সমাধান খুঁজবেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি বলেন, ১০০ শতাংশ মানুষ কখনো কোনো সিদ্ধান্তে একমত হয় না, পছন্দ-অপছন্দ থাকা স্বাভাবিক।

​রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

হেফাজতে ইসলামের নেতাদের আপত্তির বিষয়টি তুলে ধরা হলে শামীম কায়সার জানান, দায়িত্ব নেওয়ার আগেই তিনি শীর্ষ আলেমদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। তিনি বলেন, “আমি জামিয়া মাদানিয়া বারিধারায় গিয়ে মুহতারাম মুনির কাসেমী হাফিজাহুল্লাহসহ জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরামের সঙ্গে কথা বলেছি। কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্টে ১০০ শতাংশ মানুষের সমর্থন থাকে না। যেহেতু আমি আগে এই মন্ত্রণালয়ে কাজ করিনি, তাই যোগাযোগ যত বাড়বে, ভুল বোঝাবুঝি থাকলে তা দ্রুত নিরসন হবে।”

তথ্য সঠিকভাবে না পৌঁছানোকে বিভ্রান্তির কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সরাসরি কথা না হলে বা খণ্ডিত তথ্য (বিটস অ্যান্ড পিসেস) গেলে অনেক সময় ভুল ব্যাখ্যা হতে পারে। শীর্ষ আলেমদের কিছু প্রশ্ন ছিল, আমি সেগুলোর সন্তোষজনক উত্তর দিতে পেরেছি এবং ওনারা আমাকে স্বাগত জানিয়েছেন।” তিনি আরও যোগ করেন, “বাংলাদেশের খ্যাতিমান ওলামায়ে কেরাম এবং সব ধর্মের গুরুদের কাছে যাওয়াটা আমারই জিম্মাদারি। আরও আগে গেলে হয়তো এই কনফিউশনগুলো তৈরিই হতো না।”

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বাজেটের আকারে ছোট হলেও সামাজিক মূল্যবোধ ও প্রভাবের দিক থেকে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়। আমাদের মূল বার্তা—সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ। সব ধর্ম ও মতের মানুষ যেন নিজ নিজ অবস্থান থেকে কথা বলতে ও কাজ করতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।”

​প্রশাসনিক গতিশীলতা আনতে মন্ত্রণালয়ে কোনো কাজের স্থবিরতা বা ফাইল আটকে থাকার মতো সমস্যা থাকলে তা দ্রুত সমাধানেরও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

জনপ্রিয়

শিক্ষিকাকে বিয়ের প্রলোভনে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎ: ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

error: Content is protected !!

হেফাজতের আপত্তি ও সমালোচনার জবাবে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ‘ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে ওলামাদের দুয়ারে যাবেন শামীম কায়সার’

প্রকাশের সময়: ০৫:৫১:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

নিয়োগ নিয়ে হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন ধর্মীয় মহলের আপত্তি ও সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে নিয়ে ওলামা-মাশায়েখদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে যাবতীয় ভুল বোঝাবুঝি অবসানের ঘোষণা দিয়েছেন নবনিযুক্ত ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার।

​দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই তিনি স্পষ্ট করেছেন, কোনো দূরত্ব তৈরি না করে আলোচনার পথেই সমাধান খুঁজবেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি বলেন, ১০০ শতাংশ মানুষ কখনো কোনো সিদ্ধান্তে একমত হয় না, পছন্দ-অপছন্দ থাকা স্বাভাবিক।

​রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

হেফাজতে ইসলামের নেতাদের আপত্তির বিষয়টি তুলে ধরা হলে শামীম কায়সার জানান, দায়িত্ব নেওয়ার আগেই তিনি শীর্ষ আলেমদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। তিনি বলেন, “আমি জামিয়া মাদানিয়া বারিধারায় গিয়ে মুহতারাম মুনির কাসেমী হাফিজাহুল্লাহসহ জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরামের সঙ্গে কথা বলেছি। কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্টে ১০০ শতাংশ মানুষের সমর্থন থাকে না। যেহেতু আমি আগে এই মন্ত্রণালয়ে কাজ করিনি, তাই যোগাযোগ যত বাড়বে, ভুল বোঝাবুঝি থাকলে তা দ্রুত নিরসন হবে।”

তথ্য সঠিকভাবে না পৌঁছানোকে বিভ্রান্তির কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সরাসরি কথা না হলে বা খণ্ডিত তথ্য (বিটস অ্যান্ড পিসেস) গেলে অনেক সময় ভুল ব্যাখ্যা হতে পারে। শীর্ষ আলেমদের কিছু প্রশ্ন ছিল, আমি সেগুলোর সন্তোষজনক উত্তর দিতে পেরেছি এবং ওনারা আমাকে স্বাগত জানিয়েছেন।” তিনি আরও যোগ করেন, “বাংলাদেশের খ্যাতিমান ওলামায়ে কেরাম এবং সব ধর্মের গুরুদের কাছে যাওয়াটা আমারই জিম্মাদারি। আরও আগে গেলে হয়তো এই কনফিউশনগুলো তৈরিই হতো না।”

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বাজেটের আকারে ছোট হলেও সামাজিক মূল্যবোধ ও প্রভাবের দিক থেকে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়। আমাদের মূল বার্তা—সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ। সব ধর্ম ও মতের মানুষ যেন নিজ নিজ অবস্থান থেকে কথা বলতে ও কাজ করতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।”

​প্রশাসনিক গতিশীলতা আনতে মন্ত্রণালয়ে কোনো কাজের স্থবিরতা বা ফাইল আটকে থাকার মতো সমস্যা থাকলে তা দ্রুত সমাধানেরও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।