বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাসপাতাল নিজেই যেন রোগী’: গাইবান্ধায় মেডিকেল কলেজের দাবিতে উত্তাল রাজপথ, ডিসির মাধ্যমে স্মারকলিপি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময়: ০৫:৪৭:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩০ বার পড়া হয়েছে

জেলায় উন্নত চিকিৎসার কোনো বালাই নেই, যে হাসপাতালটি মানুষের ভরসা হওয়ার কথা—সেটি নিজেই এখন ধুঁকতে থাকা এক রোগী!”—গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালের বেহাল দশা তুলে ধরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নাগরিক আন্দোলনের নেতারা। উত্তরের এই পিছিয়ে পড়া জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করতে একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং স্বাস্থ্য খাতের নৈরাজ্য বন্ধের দাবিতে আজ রাজপথে নামেন স্থানীয়রা।

​বেলা ১১টায় ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকায় ‘সামাজিক সংগ্রাম পরিষদ’ গাইবান্ধা জেলা শাখার উদ্যোগে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে কৃষক, ছাত্র, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ পেশাজীবীদের উপস্থিতিতে এলাকাটি প্রতিবাদী স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে।

​সংগঠনের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মইনুল ইসলাম রাজার সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব কাজী আবু রাহেন শফিউল্ল্যা খোকনের সঞ্চালনায় সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন রাজনীতিবিদ প্রণব চৌধুরী, জিয়াউল হক জনি, মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু, মোস্তফা মনিরুজ্জামান, অ্যাডভোকেট নিলুফার ইয়াসমিন শিল্পী, রেজাউল করিম জুয়েল, অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য সেকেন্দার আলী, মানবাধিকার কর্মী রফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক নেয়ামুল আহসান পামেল, উজ্জ্বল কুমার চক্রবর্তী, আবু তাহের চৌধুরী, রেজাউল করিম রেজা ও ছাত্রনেতা পরমানন্দ দাস প্রমুখ।

​সমাবেশে বক্তারা বলেন, গাইবান্ধা মূলত একটি কৃষিপ্রধান ও নিম্ন আয়ের মানুষের জনপদ। জেলার সর্বোচ্চ চিকিৎসাকেন্দ্র গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল আজ অনিয়ম, দুর্নীতি, ওষুধ সংকট এবং চিকিৎসক ও নার্স ঘাটতিতে কার্যত অচল। সামান্য জটিল রোগ কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে মুমূর্ষু রোগীকে রংপুর বা বগুড়া রেফার্ড করা হয়। পথেই অনেকের প্রাণ যায়, আর দূর শহরে গিয়ে চিকিৎসা করানোর ব্যয় বহন করতে গিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন দরিদ্র মানুষ।

​চিকিৎসাসেবা সাধারণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে গাইবান্ধায় অবিলম্বে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জোর দাবি জানান বক্তারা। পাশাপাশি আধুনিক হাসপাতালের নতুন ভবনের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু, ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সাধারণ গ্রাহকের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বৈষম্যমূলক ‘প্রিপেইড মিটার’ বাতিলের কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

​সমাবেশ শেষে একটি প্রতিনিধি দল গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একযোগে এই গণদাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। নাগরিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, জেলার মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ে প্রয়োজনে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

জনপ্রিয়

হাসপাতাল নিজেই যেন রোগী’: গাইবান্ধায় মেডিকেল কলেজের দাবিতে উত্তাল রাজপথ, ডিসির মাধ্যমে স্মারকলিপি

error: Content is protected !!

হাসপাতাল নিজেই যেন রোগী’: গাইবান্ধায় মেডিকেল কলেজের দাবিতে উত্তাল রাজপথ, ডিসির মাধ্যমে স্মারকলিপি

প্রকাশের সময়: ০৫:৪৭:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জেলায় উন্নত চিকিৎসার কোনো বালাই নেই, যে হাসপাতালটি মানুষের ভরসা হওয়ার কথা—সেটি নিজেই এখন ধুঁকতে থাকা এক রোগী!”—গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালের বেহাল দশা তুলে ধরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নাগরিক আন্দোলনের নেতারা। উত্তরের এই পিছিয়ে পড়া জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করতে একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং স্বাস্থ্য খাতের নৈরাজ্য বন্ধের দাবিতে আজ রাজপথে নামেন স্থানীয়রা।

​বেলা ১১টায় ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকায় ‘সামাজিক সংগ্রাম পরিষদ’ গাইবান্ধা জেলা শাখার উদ্যোগে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে কৃষক, ছাত্র, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ পেশাজীবীদের উপস্থিতিতে এলাকাটি প্রতিবাদী স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে।

​সংগঠনের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মইনুল ইসলাম রাজার সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব কাজী আবু রাহেন শফিউল্ল্যা খোকনের সঞ্চালনায় সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন রাজনীতিবিদ প্রণব চৌধুরী, জিয়াউল হক জনি, মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু, মোস্তফা মনিরুজ্জামান, অ্যাডভোকেট নিলুফার ইয়াসমিন শিল্পী, রেজাউল করিম জুয়েল, অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য সেকেন্দার আলী, মানবাধিকার কর্মী রফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক নেয়ামুল আহসান পামেল, উজ্জ্বল কুমার চক্রবর্তী, আবু তাহের চৌধুরী, রেজাউল করিম রেজা ও ছাত্রনেতা পরমানন্দ দাস প্রমুখ।

​সমাবেশে বক্তারা বলেন, গাইবান্ধা মূলত একটি কৃষিপ্রধান ও নিম্ন আয়ের মানুষের জনপদ। জেলার সর্বোচ্চ চিকিৎসাকেন্দ্র গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল আজ অনিয়ম, দুর্নীতি, ওষুধ সংকট এবং চিকিৎসক ও নার্স ঘাটতিতে কার্যত অচল। সামান্য জটিল রোগ কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে মুমূর্ষু রোগীকে রংপুর বা বগুড়া রেফার্ড করা হয়। পথেই অনেকের প্রাণ যায়, আর দূর শহরে গিয়ে চিকিৎসা করানোর ব্যয় বহন করতে গিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন দরিদ্র মানুষ।

​চিকিৎসাসেবা সাধারণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে গাইবান্ধায় অবিলম্বে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জোর দাবি জানান বক্তারা। পাশাপাশি আধুনিক হাসপাতালের নতুন ভবনের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু, ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সাধারণ গ্রাহকের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বৈষম্যমূলক ‘প্রিপেইড মিটার’ বাতিলের কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

​সমাবেশ শেষে একটি প্রতিনিধি দল গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একযোগে এই গণদাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। নাগরিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, জেলার মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ে প্রয়োজনে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।