
গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালি পিয়ারাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোস্তম আলী মন্ডলের দৃশ্যমান দুর্নীতি, অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সাবেক স্ত্রীকে প্রতারণার অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে এলাকা। আজ সকালে সাবেক স্ত্রী শাহানা বেগম টাকা ও সন্তান হত্যার বিচার দাবিতে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়ে। একপর্যায়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে পদত্যাগপত্র লিখে নেয় জনতা। পরে খবর পেয়ে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রধান শিক্ষক ও তার সাবেক স্ত্রীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন।

অনুসন্ধান ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার জয়নাল আবেদিনের মেয়ে শাহানা বেগমের সাথে ২০১৯ সালে গোপনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন প্রধান শিক্ষক রোস্তম আলী মন্ডল। বিয়ের পর গাইবান্ধা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় তারা বসবাস শুরু করেন। এ সময় শাহানা বেগমের পূর্বের স্বামীর জমি বিক্রির ১৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বিভিন্ন সুচতুর অজুহাতে হাতিয়ে নেন এই প্রধান শিক্ষক।

ঘটনার মোড় ভিন্ন দিকে নেয় চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে। শাহানা বেগম অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর থেকেই সন্তান যেন ভূমিষ্ঠ হতে না পারে, সেজন্য তার ওপর চালানো হতো অমানুষিক নির্যাতন। গত ১৮ জানুয়ারি তাদের একটি সন্তান জন্ম নেয়। শাহানা বেগমের অভিযোগ, জন্মের পরপরই প্রধান শিক্ষক নবজাতকটিকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেন। এরপর ঘটনা ধামাচাপা দিতে কোনো প্রকার ধর্মীয় রীতি বা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ছাড়াই অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে গাইবান্ধা পৌর গোরস্থানে পুরাতন কাপড়ে জড়িয়ে শিশুটিকে দাফন করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, ২০২১ সালে পিয়ারাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই রোস্তম আলী মন্ডলের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনিয়ম ও একাধিক নারীঘটিত কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে। বারবার এসব অপরাধ প্রমাণিত হলেও এক ‘অদৃশ্য শক্তির’ জোরে তিনি পার পেয়ে আসছিলেন।

আজ সকালে সন্তান হত্যা ও টাকা আত্মসাতের বিচারের দাবিতে সাবেক স্ত্রী শাহানা বেগম স্কুলে হাজির হলে থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় শত শত মানুষ স্কুল প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা এই লম্পট ও দুর্নীতিবাজ শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা প্রধান শিক্ষককে তার অফিস কক্ষে অবরুদ্ধ করে এবং বিদ্যালয়ের অফিসিয়াল প্যাডে তার পদত্যাগপত্র লিখে নেয়।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে খবর দেওয়া হলে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি/এ্যাসিল্যান্ড) জাহাঙ্গীর আলম বাবু এবং সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পুলিশ ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে অবরুদ্ধ প্রধান শিক্ষক এবং অভিযোগকারী শাহানা বেগমকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে যান।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহাঙ্গীর আলম বাবু বলেন,আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। অভিযোগগুলো গুরুতর। পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই কলঙ্কিত শিক্ষককে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, অন্যথায় আরও বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















