
গাইবান্ধার ফুলছড়িতে দুই কিশোরকে যৌন নিপীড়ন ও বলৎকারের চেষ্টার মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশের হাতে তুলে না দিয়ে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে নামমাত্র মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম শহিদুল ইসলাম (৫৫)। তিনি ফুলছড়ি উপজেলার দক্ষিণ উদাখালী এলাকার বাসিন্দা এবং গাইবান্ধা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান সহকারী হিসেবে কর্মরত। স্থানীয়দের দাবি, তিনি এলাকায় নিজেকে ‘নকশবন্দিয়া মোজাদ্দেদিয়া তরিকার পীর’ পরিচয় দিয়েও নানা প্রভাব খাটাতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় ফুলছড়ি মহিলা কলেজ সংলগ্ন এলাকায় ১৫ বছর বয়সী দুই কিশোরকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা চালান শহিদুল ইসলাম। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি কিশোরদের সম্মোহিত বা ‘হিপনোটাইজ’ করার অপচেষ্টাও চালান। বিষয়টি হাতেনাতে ধরে ফেলেন স্থানীয় বাসিন্দারা এবং তাকে আটক করেন।
অভিযুক্তকে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের সোপর্দ করার দাবি উঠলেও স্থানীয় প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে তাকে উদাখালী ইউনিয়নের হাসপাতাল মোড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. খাজা মন্ডলের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক বসানো হয়। যৌন নিপীড়নের মতো ফৌজদারি অপরাধকে কোনো প্রকার আইনগত প্রক্রিয়ায় না নিয়ে কেবল মুচলেকা নিয়ে অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে, অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা স্বীকার করার পরও ইউপি সদস্য খাজা মন্ডল তাকে দায়মুক্তি দেন।
এলাকাবাসীর দাবি, শহিদুলের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিকবার এমন অনৈতিক ও বিকৃত আচরণের অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু বারবার প্রভাব খাটিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছেন তিনি। অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরদের ওপর এমন ন্যাক্কারজনক নিপীড়নের চেষ্টা কীভাবে সালিশে রফা করা হলো, তা নিয়ে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এ ধরনের অপরাধীদের আইনের আওতায় না এনে উল্টো ছাড় দেওয়ায় সমাজে বিকৃত মানসিকতার ব্যক্তিদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তিনি মাত্রই অবগত হয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই-বাছাই করে অভিযুক্ত প্রধান সহকারীর বিরুদ্ধে কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
(ভুক্তভোগী দুই কিশোরের সুরক্ষার স্বার্থে তাদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।)
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















