
গাইবান্ধা সদর উপজেলায় স্কুলে যাওয়ার পথে মুক্তি আক্তার (১৪) নামে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে দিনের আলোতে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অপহৃতার ভাই বাদী হয়ে সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ঘাগোয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ আনালেরতারী গ্রামের বাসিন্দা ও দারিয়াপুর কিয়ামত উল্যাহ মেমোরিয়াল উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী মুক্তি আক্তারকে স্কুলে যাতায়াতের পথে দীর্ঘদিন ধরে কুপ্রস্তাব ও উত্ত্যক্ত করে আসছিল দক্ষিণ গিদারি গ্রামের মো. মারুফ মিয়া (১৯)। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও বখাটে মারুফ তার তৎপরতা বন্ধ করেনি।
গত ১৮ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে ভুক্তভোগী ছাত্রী বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথে দারিয়াপুর চারমাথা মোড়ে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মারুফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে তার গতিরোধ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রকাশ্যে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে দ্রুত অজ্ঞাত স্থানের দিকে পালিয়ে যায় তারা।
অপহরণের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও মুক্তি বাড়ি না ফেরায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে মেয়ের সন্ধান চাইলে মারুফের পরিবারের সদস্যরা ভুক্তভোগীর পরিবারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং ঘটনাটি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে খুন-জখম ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।

এ ঘটনায় অপহৃত ছাত্রীর বড় ভাই মো. আঃ রহিম মিয়া বাদী হয়ে গত ২৪ আগস্ট গাইবান্ধা সদর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ৫৩)। মামলায় মো. মারুফ মিয়া (১৯), তার পিতা মো. খোরশেদ আলম খুশি (৪৫) ও মো. সুজন মিয়া (২৭)-সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪–৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া বাদীপক্ষের দাবি, স্থানীয় এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার প্রত্যক্ষ ইন্ধন ও আশ্রয়ে আসামিরা এমন দুঃসাহস দেখিয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল কাইয়ুম জানান, স্কুলছাত্রী অপহরণের ঘটনায় নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে। ভুক্তভোগীকে দ্রুত অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার এবং অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















