মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টিটিসিতে যেন হরিলুট: গাইবান্ধায় জয়ন্ত সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি বিদেশগামীরা, নিয়ম ভেঙে তোলা হচ্ছে অতিরিক্ত ফি!

​সরকারি সেবা নিতে এসে চড়া দামে ‘সেবা’ কিনতে হচ্ছে প্রবাসীদের। যে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে দেশের অর্থনীতির চাকা ঘোরে, গাইবান্ধা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) পদার্পণ করতেই তাদের পড়তে হচ্ছে জালিয়াতি আর অর্থ আত্মসাতের চক্করে! ৩ দিনের প্রি-ডিপার্চার (পিডি) প্রশিক্ষণে অনিয়ম, সরকারি ফির চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ টাকা আদায় এবং বহিরাগত দোকানের সাথে অশুভ আঁতাতের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এক দুর্ধর্ষ অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রটির কম্পিউটার অপারেটর জয়ন্ত রায়ের বিরুদ্ধে।

​অনুসন্ধান ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পিডি প্রশিক্ষণের নির্ধারিত ভর্তি ফি মাত্র ২০০ টাকা। কিন্তু গাইবান্ধা টিটিসিতে নিয়মকানুন যেন বইয়ের পাতাতেই সীমাবদ্ধ! এখানে প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে আদায় করা হচ্ছে ২২০ টাকা থেকে শুরু করে ৬০০ টাকা পর্যন্ত।

​কাতারগামী এক নিঃস্ব প্রবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,আমাদের টিটিসি থেকে সোজা নির্দেশ দেওয়া হয় অমুক বাইরের দোকানে গিয়ে ভর্তি হতে। সেখানে গেলে বলা হয়—‘জয়ন্ত স্যারের কথা বলা আছে, টাকা ৬০০ দেওয়া লাগবে।’ যার কাছে যেমন পারছে, ধোঁকা দিয়ে টাকা খসিয়ে নিচ্ছে। দেখার কেউ নেই!

​সৌদি আরবগামী অন্য এক প্রশিক্ষণার্থী হতাশা প্রকাশ করে জানান, গ্রামের সহজ-সরল মানুষ হওয়ায় তারা প্রথমে জালিয়াতি ধরতে পারেন না। প্রশাসনিক নির্দেশ মনে করে টাকা দেওয়ার পর বুঝতে পারেন তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

​২০২৪ সালের ২০ মার্চ ১৩তম গ্রেডে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে যোগ দেন জয়ন্ত রায়। অভিযোগ রয়েছে, যোগদানের পর থেকেই তিনি পুরো ভর্তি প্রক্রিয়াকে এক প্রকার ‘কমিশন বাণিজ্যে’ রূপান্তর করেছেন। কেন্দ্রের ভেতরে সরকারি সুবিধা থাকা সত্ত্বেও তিনি ভর্তিচ্ছুদের নির্দিষ্ট বহিরাগত দোকানে পাঠিয়ে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পথ সুগম করে দেন। এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যে জয়ন্ত রায়ের সরাসরি হাত রয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া প্রবাসীদের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত কলম ও খাতা বিতরণ নিয়েও চলছে চালবাজি। অধিকাংশ প্রশিক্ষণার্থীই কোনো ধরনের উপহার বা সামগ্রী না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। ফলে এই বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ কোন পকেটে ঢুকছে—তা নিয়ে উঠে গেছে বড় প্রশ্ন।

​বিদেশে যাওয়ার আগে দেশের মাটিতেই এভাবে সরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা কর্মচারীর হাতে প্রতারিত হওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। গাইবান্ধা টিটিসি-কে দুর্নীতির আখড়া থেকে মুক্ত করতে জয়ন্ত রায়ের বিভাগীয় তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি তুলেছেন ভুক্তভোগী প্রবাসীরা। সেই সাথে অতিরিক্ত অর্থ আদায় অবিলম্বে বন্ধে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

জনপ্রিয়

রিজভী-লিংকনকে স্বাগত জানাতে গাইবান্ধার রাজপথে নেতাকর্মীদের ঢল

error: Content is protected !!

টিটিসিতে যেন হরিলুট: গাইবান্ধায় জয়ন্ত সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি বিদেশগামীরা, নিয়ম ভেঙে তোলা হচ্ছে অতিরিক্ত ফি!

প্রকাশের সময়: ১১:০৭:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

​সরকারি সেবা নিতে এসে চড়া দামে ‘সেবা’ কিনতে হচ্ছে প্রবাসীদের। যে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে দেশের অর্থনীতির চাকা ঘোরে, গাইবান্ধা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) পদার্পণ করতেই তাদের পড়তে হচ্ছে জালিয়াতি আর অর্থ আত্মসাতের চক্করে! ৩ দিনের প্রি-ডিপার্চার (পিডি) প্রশিক্ষণে অনিয়ম, সরকারি ফির চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ টাকা আদায় এবং বহিরাগত দোকানের সাথে অশুভ আঁতাতের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এক দুর্ধর্ষ অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রটির কম্পিউটার অপারেটর জয়ন্ত রায়ের বিরুদ্ধে।

​অনুসন্ধান ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পিডি প্রশিক্ষণের নির্ধারিত ভর্তি ফি মাত্র ২০০ টাকা। কিন্তু গাইবান্ধা টিটিসিতে নিয়মকানুন যেন বইয়ের পাতাতেই সীমাবদ্ধ! এখানে প্রশিক্ষণার্থীদের কাছ থেকে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে আদায় করা হচ্ছে ২২০ টাকা থেকে শুরু করে ৬০০ টাকা পর্যন্ত।

​কাতারগামী এক নিঃস্ব প্রবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,আমাদের টিটিসি থেকে সোজা নির্দেশ দেওয়া হয় অমুক বাইরের দোকানে গিয়ে ভর্তি হতে। সেখানে গেলে বলা হয়—‘জয়ন্ত স্যারের কথা বলা আছে, টাকা ৬০০ দেওয়া লাগবে।’ যার কাছে যেমন পারছে, ধোঁকা দিয়ে টাকা খসিয়ে নিচ্ছে। দেখার কেউ নেই!

​সৌদি আরবগামী অন্য এক প্রশিক্ষণার্থী হতাশা প্রকাশ করে জানান, গ্রামের সহজ-সরল মানুষ হওয়ায় তারা প্রথমে জালিয়াতি ধরতে পারেন না। প্রশাসনিক নির্দেশ মনে করে টাকা দেওয়ার পর বুঝতে পারেন তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

​২০২৪ সালের ২০ মার্চ ১৩তম গ্রেডে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে যোগ দেন জয়ন্ত রায়। অভিযোগ রয়েছে, যোগদানের পর থেকেই তিনি পুরো ভর্তি প্রক্রিয়াকে এক প্রকার ‘কমিশন বাণিজ্যে’ রূপান্তর করেছেন। কেন্দ্রের ভেতরে সরকারি সুবিধা থাকা সত্ত্বেও তিনি ভর্তিচ্ছুদের নির্দিষ্ট বহিরাগত দোকানে পাঠিয়ে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পথ সুগম করে দেন। এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যে জয়ন্ত রায়ের সরাসরি হাত রয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া প্রবাসীদের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত কলম ও খাতা বিতরণ নিয়েও চলছে চালবাজি। অধিকাংশ প্রশিক্ষণার্থীই কোনো ধরনের উপহার বা সামগ্রী না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। ফলে এই বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ কোন পকেটে ঢুকছে—তা নিয়ে উঠে গেছে বড় প্রশ্ন।

​বিদেশে যাওয়ার আগে দেশের মাটিতেই এভাবে সরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা কর্মচারীর হাতে প্রতারিত হওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। গাইবান্ধা টিটিসি-কে দুর্নীতির আখড়া থেকে মুক্ত করতে জয়ন্ত রায়ের বিভাগীয় তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি তুলেছেন ভুক্তভোগী প্রবাসীরা। সেই সাথে অতিরিক্ত অর্থ আদায় অবিলম্বে বন্ধে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।