
সরকারি নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে রমরমা প্রাইভেট বাণিজ্য ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে গাইবান্ধা কলেজিয়েট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা লেলিনা আকতার লিয়ার বিরুদ্ধে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে প্রাইভেট পড়ানো, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বৈষম্যমূলক নম্বর দেওয়া, বিদ্যালয়ে এসে অফিস কক্ষে ঘুমানো এবং প্রতিবাদ করলে স্বামী দিয়ে প্রধান শিক্ষককে হুমকি দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি দেড় মাস আগে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার না পেয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
লিখিত অভিযোগ ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সহকারী শিক্ষিকা লেলিনা আকতার লিয়া সরকারি চাকরিবিধির তোয়াক্কা না করে নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক প্রাইভেট পড়াতে বাধ্য করেন। যেসব শিক্ষার্থী তার কাছে প্রাইভেট পড়ে, তাদের পরীক্ষায় অন্যায্যভাবে বেশি নম্বর দেওয়া হয়; আর যারা পড়ে না, তাদের ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি ও মানসিক চাপ দেওয়া হয়। বাইরে ব্যাচ পড়িয়ে ক্লান্ত হয়ে বিদ্যালয়ে এসে তিনি ঠিকমতো পাঠদান করেন না, বরং প্রায়ই বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে প্রকাশ্যেই ঘুমিয়ে থাকেন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ চরমভাবে ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষকরা প্রতিবাদ জানালে তিনি উল্টো অসদাচরণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, কোনো শিক্ষক এ বিষয়ে কথা বললে শিক্ষিকা লিয়া তার স্বামী সাঘাটার সোনালী ব্যাংক শাখার ক্যাশ অফিসার রওশন আলী প্রামানিককে দিয়ে মোবাইল ফোনে প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকদের নানা ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করান।
এহেন অপেশাদার ও বিশৃঙ্খল আচরণের প্রতিকার চেয়ে গত ২১ জুলাই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জরুরি সভা ডেকে সর্বসম্মতিক্রমে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। তবে দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও শিক্ষা প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতায় অভিযুক্ত শিক্ষিকা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। এছাড়া তিনি কাব লিডার বেসিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও কাব কার্যক্রম পরিচালনা না করে দায়িত্ব অবহেলা করে আসছেন।
প্রাইভেট বাণিজ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষিকা লেলিনা আকতার লিয়া দায়সারাভাবে বলেন, “নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানো যাবে না—এমন নিয়ম আমার জানা নেই।”
অভিযোগের বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লক্ষ্মণ কুমার দাসের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে গাইবান্ধা সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল হান্নান জানান, তিনি এখন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগের কপি হাতে পাননি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 















